Program Details


Title :   চট্টগ্রাম কলেজে সনাক-টিআইবি’র ওরিয়েন্টেশন

Photos   

Description :   চট্টগ্রাম কলেজে সনাক-টিআইবি’র ওরিয়েন্টেশন: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে তরুণদের ভূমিকার ওপর জোর ২৬ এপ্রিল ২০২৬,চট্টগ্রাম: আজ ২৬ এপ্রিল ২০২৬ রোববার সকালে চট্টগ্রাম কলেজে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), টিআইবি চট্টগ্রাম আয়োজিত “জাগ্রত বিবেক, দুর্জয় তারুণ্যÑদুর্নীতি রুখবেই” প্রতিপাদ্যে টিআই, টিআইবি ও দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির প্রারম্ভে দুর্নীতিবিরোধী গণস্বাক্ষর ক্যাম্পেইন বোর্ড উদ্বোধন এবং তথ্য অধিকার আইন-২০০৯-এর ক্যাম্পেইন বুথ পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, উপাধ্যক্ষ এবং সনাক নেতৃবৃন্দ। দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে কলেজ ক্যাম্পাসে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ও গণসাক্ষর সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে তরুণ প্রজন্মকে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের মূল শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেন, দুর্নীতি শুধু নৈতিক অবক্ষয় নয়; এটি দেশের উন্নয়ন, সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচারের অন্যতম প্রধান অন্তরায়। সনাক-টিআইবি চট্টগ্রামের ইয়েস আহ্বায়ক ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক সঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, “তরুণ সমাজই যেকোনো পরিবর্তনের প্রধান শক্তি। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনের সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তরুণদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।” টিআইবি চট্টগ্রামের ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর মোঃ জসিম উদ্দিন টিআই ও টিআইবি-র কর্মপদ্ধতির ওপর স্লাইড প্রদর্শন করেন। তিনি জানান, জার্মানির বার্লিন-ভিত্তিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) গবেষণার মাধ্যমে দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করে এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে সংস্কারের জন্য কাজ করে। পরবর্তীতে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন নিয়ে ধারনাপত্র পাঠ করেন করেন টিআইবি চট্টগ্রামের ইয়েস সদস্য ও টিআইবি’র সাধারণ পর্ষদের ইয়েস প্রতিনিধি মোঃ মিরাজুল ইসলাম। পরবর্তীতে আলোচনায় স্বাগতিক বক্তব্য প্রদান করেন সনাক-টিআইবি চট্টগ্রামের সদস্য সাইফুদ্দিন খালেদ চৌধুরী বলেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশে একটি দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিতামূলক সুশাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনের সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির বিস্তার রোধে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে গঠনমূলক প্রভাব বিস্তার করা । সনাক-টিআইবি’র সভাপতি প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন মজুমদার বলেন, দুর্নীতিবিরোধী লড়াই কোনো একক সংস্থা বা সরকারের পক্ষে জয় করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন। এই আন্দোলনের প্রাণশক্তি হলো সাধারণ মানুষ এবং বিশেষ করে আমাদের সচেতন তরুণ প্রজন্ম। টিআইবি-র অনুপ্রেরণায় সারা দেশে গড়ে ওঠা ইয়েস গ্রুপ এবং বিভিন্ন সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) তৃণমূল পর্যায়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। যখন সমাজের প্রতিটি স্তরে ঘুষ ও স্বজনপ্রীতিকে সামাজিকভাবে বয়কট করা হবে, তখনই দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে। মনে রাখতে হবে, সততা কেবল ব্যক্তিগত গুণ নয়, এটি সামাজিক আন্দোলনের হাতিয়ার যা একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে সহায়তা করে। সনাক টিআইবি চট্টগ্রামের সাবেক সহ-সভাপতি রওশন আরা চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে দুর্নীতি দমনে এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এক অনন্য নাম। ১৯৯৬ সাল থেকে সংস্থাটি তথ্য-উপাত্ত ভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের দুর্নীতির চিত্র সাহসিকতার সাথে তুলে ধরছে। টিআইবি কেবল সমালোচনাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এটি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রস্তাবনা পেশ করে এবং 'তথ্য অধিকার আইন'-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ আইন বাস্তবায়নে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। ভয়হীন এবং নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলায় সংস্থাটি আজ এদেশের সাধারণ মানুষের কাছে নাগরিক সমাজের এক আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। সনাক-টিআইবি চট্টগ্রামের সনাক সদস্য রিটন কুমার বড়–য়া বলেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) বর্তমানে বিশ্বজুড়ে দুর্নীতিবিরোধী সংগ্রামের এক আপসহীন ও বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। ১০০টিরও বেশি দেশে বিস্তৃত এই সংস্থাটি মূলত সরকারি, রাজনৈতিক এবং ব্যবসায়িক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষে কাজ করে। টিআই-এর বার্ষিক 'দুর্নীতি ধারণা সূচক' (ঈচও) বিশ্বব্যাপী দেশগুলোর সুশাসন ও দুর্নীতির মানদ- হিসেবে বিবেচিত হয়, যা বিভিন্ন দেশের সরকারকে তাদের ত্রুটি সংশোধনে এক প্রকার নৈতিক চাপ সৃষ্টি করে। টিআই বিশ্বাস করে যে, দুর্নীতি কোনো একক দেশের সমস্যা নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক ব্যাধি যা দূর করতে আন্তর্জাতিক সমন্বয় এবং কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য। আলোচনা সভায় সম্জবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মো. মজিবুল হক বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা এখন আর কেবল স্লোগান নয়, বরং সময়ের দাবি। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) বারবার বিশ্বজুড়ে এই বার্তাই পৌঁছে দিচ্ছে যে, যেখানে স্বচ্ছতা নেই, সেখানে উন্নয়ন কখনোই অন্তর্ভুক্তিমূলক হয় না। আমরাও চাই এই আন্দোলনে সমাজের সকল শ্রেনি পেশার মানুষ দৃঢ়ভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকুক। সর্বোপরি উক্ত প্রোগ্রামের প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের মূল ভিত্তি হলো 'অসহযোগ'। যখন একজন সাধারণ নাগরিক অন্যায় সুযোগ নিতে অস্বীকার করেন এবং সরকারি সেবা পেতে ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানান, তখনই এই আন্দোলনের প্রকৃত বিজয় শুরু হয়। টিআইবি সারা দেশে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করছে, যা দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি অদৃশ্য দেয়াল তৈরি করে। এই আন্দোলন কেবল রাজপথের প্রতিবাদ নয়, বরং এটি আমাদের মূল্যবোধের পরিবর্তন। প্রতিটি পরিবার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঘৃণা এবং সততার শিক্ষা প্রদান করে, তবেই সামাজিক এই আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারব। দিনব্যাপী কর্মসূচি’র শেষে শিক্ষার্থীরা দুর্নীতিবিরোধী শপথ গ্রহণ করেন। শপথ পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী। দিনের কর্মসূচীতে আলোচনা সভার পাশাপাশি কলেজ ক্যাম্পাসে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ও দুর্নীতি বিরোধী গণসাক্ষর সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। একই সাথে দুর্নীতিবিরোধী স্লোগান প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।


জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট

মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক

মোঃ শরীফ উদ্দিন

সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট

ফারজানা রহমান মীম

জরুরি হটলাইন

সার্বিক তত্ত্বাবধানে
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, চট্টগ্রাম
সার্বিক সহযোগিতায়
চট্টগ্রাম জেলায় কর্মরত এনজিও সমূহ
Design,Concept And Development By
Coders Lab